logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

এরশাদের খায়েশ, রওশনের উপলব্ধি

শামীমুল হক | আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৮

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের খায়েশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় বড় দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আর নেতা-কর্মীদের কাছে তার এমন খায়েশের কথা প্রায়ই অকপটে বলেন। আবার আগামীতে সরকার গঠনের কথাও বলেন তিনি।

জাতীয় পার্টি সরকারে না যেতে পারলেও সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের বিএনপিকে পেছনে ফেলার খায়েশ সম্ভবত পূরণ হতে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যাওয়ার পর এরশাদ ও তার দল জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে একপ্রকার আশা জেগেছে।

বিভিন্নভাবে কথাবার্তায় তেমনটা স্পষ্ট হয়েছে তাদের বক্তব্যেও। এরই মধ্যে এরশাদ আগামী নির্বাচনে এককভাবে লড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। তিনশ' আসনে প্রার্থী দেয়ার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী এরশাদ পত্নী রওশন বলেছেন, জাতীয় পার্টি সম্মানের সঙ্গে নেই। কোথাও গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। লজ্জা লাগে। আমরা কি সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে আছি?

সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রওশন এরশাদ এমন মন্তব্য করেন। তিনি সংসদে এও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম মন্ত্রিসভা থেকে আমাদের পার্টির সদস্যদের প্রত্যাহার করুন। কিন্তু সেটা হয়নি। বাহ চমৎকার কথা রওশন এরশাদের মুখে।

জনগণ যেটা চার বছর আগে উপলব্ধি করেছেন সেটা তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন চার বছর পর। ভালোই বলেছেন তিনি। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ বলার পেছনেও অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, যা তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চান।

সে যাকগে- সম্প্রতি হয়ে যাওয়া রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা দলীয় প্রার্থী জয়ী হওয়ার পরতো এরশাদ বলেই ফেলেছেন, আগামীতে তারা সরকার গঠন করবেন। কথা হলো-এরশাদের খায়েশ কি পূরণ হবে? মানুষ কি এখনও এরশাদের জাপাকে হৃদয়ে লালন করে? নাকি নয় বছর দেশ শাসনের স্মৃতি আকড়ে পথ চলছে মানুষ। বিষয়টি কি এরশাদ বুঝতে পারেন?

নাকি রংপুরে জয়ী হয়ে তিনি মনে করছেন- গোটা দেশেই জাতীয় পার্টির জয়জয়কার। একটি কথা বলতেই হয়, আপাতদৃষ্টিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটার ও প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে যে সংসদ গঠিত হয়েছে সে সংসদে এরশাদ দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। এক অর্থে সংসদের হিসাব ধরেই দলগুলোর মান নির্ণয় হয়। এ মান ধরে তিনি তো দ্বিতীয় দল হয়েই আছেন।

তবে বিএনপিকে পেছনে ফেলার কথা কেন তিনি বারবার বলছেন? এরশাদ কি এ হিসাব মেনে নিতে পারছেন না? তিনি নিজেকে কত নম্বর দল ভাবেন? বর্তমান সংসদের হিসাবে দুই নাম্বার থেকে তিনিতো এক নম্বরে উঠার চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে তার সামনেতো আওয়ামী লীগ।

তিনি আওয়ামী লীগকে না টপকে বিএনপিকে টপকানের খায়েশ কেন করছেন? তাহলে কি তিনি বুঝে গেছেন- আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে? বিএনপি সেই নির্বাচনের বাইরে থাকবে। কারণ খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে লড়তে পারবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আর যদি নির্বাচনে আসেন তাহলে তার টার্গেট বিএনপিকে টপকে বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় অবস্থানটা ধরে রাখা। সরকারে যাওয়া নয়। এমনটি হলে এরশাদ এখানেই হেরে গেছেন। এরশাদের জনপ্রিয়তার একটি নমুনা দেখলে বুঝা যায় তার অবস্থান।

দেশে হয়ে যাওয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী ক'টি উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাতো তিনি জানেন। এতেতো তিনি দেশে তার সমর্থন মাপতে পারেন। তা না করে বিএনপিকে হটানোর এত শখ কেন? বড্ড জানতে ইচ্ছে করে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের দয়ায় এরশাদের দল জাপা সংসদে বিরোধী দল। আবার সরকারেরও অংশ। আর বাস্তবেতো জাতীয় পার্টি রংপুরের আঞ্চলিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যদিও রংপুরের মানুষও এখন আর জাতীয় পার্টি বা আমাদের ছাওয়াল এরশাদ বলতে পাগল নন। তাদের সেই মোহ কেটে গেছে।

দেশে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে এরশাদ টের পাবেন তিনি কোথায় আছেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তার যে নাটক দেশবাসী দেখেছে তাতে সবাই হিসাব মিলিয়ে নিয়েছে। অনেকে অনেক কথা বলছেন। কান পাতলেই সেসব কথা শোনা যায়। জনাব এরশাদ, কান পেতে শুনুন দেশের মানুষ কি বলছে। আপনাকে নিয়ে কি মন্তব্য করছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম