logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

বঙ্গবন্ধু : আপনি প্রাকৃতজন; মানুষের নেতা

প্রতীক ইজাজ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৮

আপনি প্রকৃত অর্থেই মানুষের নেতা। গোটা দেশকে, দেশের মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে একটি পরিণতির দিকে নিয়ে গেছেন আপনি। স্বাধীনতার প্রশ্নে একাট্টা করেছেন রাজনৈতিক মত ও দর্শনকে। দেশ ও মানুষের প্রতি আপনার মাহাত্ম্য প্রেম ছিল অকৃপন, অকৃত্রিম।

আপনি মানুষের নেতা। একটি রাষ্ট্রের জন্মদাতা। একটি জাতির নির্মাতা। বছরের পর বছর নিষ্পেষিত মানুষকে আপনিই মুক্তি দিয়েছেন। আলোয় এনেছেন। আপনার অকৃত্রিম দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আপনাকে আমাদের ঘরের মানুষ করেছে। আপনি ভৌগোলিক সীমারেখা ছাড়িয়ে মানুষের নেতা হয়েছেন।

এখন আপনার স্তুতি বিশ্বময়। আপনাকে নিয়ে গবেষণা হয়। আপনি পঠিত হন সর্বমানুষে। আপনার ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্য। পাঠ্যপুস্তকে, গানে, বক্তৃতায়, বাণীতে আপনি উচ্চারিত বহুকণ্ঠে, বিশ্বময়।

আপনাকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। আপনি জাতির জনক। আপনার প্রতি আমাদের ঋণ অনন্ত অসীম। যতদিন মানুষ থাকবে, নিষ্পেষণ থাকবে, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থাকবে; ততদিন আপনি থাকবেন। আপনার দর্শন থাকবে। আপনি পথ দেখাবেন সংকটে সম্ভাবনায়।

আপনি বেঁচে থাকবেন আরও হাজারো বছর। অনন্ত পথ সময় কাল। আপনাকে স্মরণে কোনো আয়োজন লাগবে না। কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন হবে না। যে নেতা থাকে মানুষে, মনে, তার নাম উচ্চারিত হয় বাতাসে। আপনি আমাদের প্রাকৃতজন।

আপনার সেই ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্বময়, সর্বমানুষের। মাত্র ১ হাজার ১০৫টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত মাত্র ১৮ মিনিটের সংক্ষিপ্ত একটি ভাষণ দিয়েছিলেন আপনি। সম্পুর্ণ অলিখিত। অথচ জগৎবিখ্যাত।

অসাধারণ বক্তব্য। যেমন সারগর্ভ, ওজস্বী ও যুক্তিযুক্ত; তেমনি তির্যক, তীক্ষ ও দিক-নির্দেশনাপূর্ণ। অপূর্ব শব্দশৈলী, বাক্যবিন্যাস ও বাচনভঙ্গি। একান্তই আপন, নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। ভাষণে পাকিস্তানের ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাঙালি নিপীড়নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা যেমন দিয়েছেন; তেমনি বাঙালিকে স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নির্দেশ দিয়েছেন আপনি। এই ভাষণ এখন শুধু বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্ব মানবতার জন্যও অবিস্মরণীয়, অনুকরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল বা সম্পদ।

আপনার ভাষণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। সে ভাষণ এখন এক অনন্য মহিমায় উদ্ভাসিত। একাত্তরে এই ভাষণেই মুক্তি নিয়ে সংশয়ে থাকা বাঙালির চোখে আপনি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার অমর জ্যোতি। পাহাড়সম সাহস বুকে নিয়ে সেদিন দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

আপনি ছিলেন বাঙালি মুক্তির মুলমন্ত্র। আপনি অভয় দিয়েছেন বলেই সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্র ছাপিয়ে আপনার সে ভাষণ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশময়, সর্বজনে। আপনার অকুণ্ঠচিত্তের সেই অমোঘ ডাক স্বাধীনতার মুলমন্ত্র হয়ে বেজেছিল বাঙালির বুকে।

আপনাকে বুকে রেখেই একাত্তরে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার মুক্তি সংগ্রামে। আপনি-ই মৃত্যুমুখ ও নিপীড়িত বাঙালিকে দিয়েছিলেন মুক্তির স্বাদ।

বঙ্গবন্ধু, আপনি কেবল বাংলাদেশের নেতা ও স্থপতি নন; আপনি মানবের মুক্তি আন্দোলনেরও প্রেরণা, বিশ্বলোকের স্মৃতির অংশীজন। আপনি বিশ্বময় মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির দর্শন। আপনি আমাদের সশ্রদ্ধ বিপ্লবী সালাম নেবেন।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মী।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ