logo

রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

অভ্যাস, বদ অভ্যাস

শামীমুল হক | আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৮

পৃথিবীতে হায়? সে বেশি চায়/ আছে যার ভূরি ভূরি/ রাজার হস্ত/ করে সমস্ত/ কাঙ্গালের ধন চুরি। যথার্থই বলেছেন কবি। চলার পথে কবির এ কাব্য কত যে মধুর তা সবাই উপলব্ধি করছেন। বাস্তবেও দেখছেন প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত। রাস্তায় বেরুলে ছিনতাইকারী, মলম পার্টি, ব্লেড পার্টি, পকেটমার এমনকি থাবা পার্টির ভয়।

যেকোনো সময় তারা তাদের কৌশল প্রয়োগ করে হস্তগত করতে পারে অন্যের ধন, অর্থ। কেউ কেউ এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। আবার রাজপথে, ফুটপাতে অনেক ভিক্ষুক আছেন যারা কোটিপতি। ঢাকায় তাদের একাধিক বাড়ি রয়েছে। ভবন রয়েছে।

কারও কারও সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। কারও সন্তান সম্মানজনক চাকরি করছেন। কেউ কেউ মেয়ে বিয়ে দিয়েছে লাখ লাখ টাকা খরচ করে। এত কিছুর পরও ওইসব ভিক্ষুক এখনও রাজপথে থালা নিয়ে বসেন। ভিক্ষা করেন। বাসায় থাকতে নাকি তাদের ভালো লাগে না।

ঘুমের মধ্যেও মাঝে মাঝে বলে ওঠেন- ‘মাগো কিছু দিয়া যান।’ দীর্ঘদিনের অভ্যাস ত্যাগ করা খুব কঠিন। ওই ছেলের মতো। ওই ছেলে বিয়ে করেছে। ঘরে নতুন বউ। প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। রাতে বাড়ি ফেরে।

একদিন বউ তাকে বলছে, তুমি কি কর। ছেলে জবাব দেয় চাকরি করি। বড় চাকরি। ওগো বলো না কি চাকরি? ছেলে কোনো জবাব দেয় না। এভাবে দিন চলতে থাকে। বেশকিছু দিন পর একরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন দু’জন। হঠাৎ চিৎকারে বউ ঘুম থেকে জেগে উঠেন।

দেখেন স্বামী তার চিৎকার করে বলছেন- ওই লাগেনি জুতা পালিশ...। লাগেনি জুতা পালিশ...। বউয়ের আর বুঝতে বাকি রইলো না- তার স্বামী কি করেন। দিনে যা করেন রাতে স্বপ্নের মধ্যেও স্বামী বেচারা তা দেখছেন। তাই ডাকছেন ‘ওই লাগেনি জুতা পালিশ...।’

আসলে অভ্যাস কখনও পরিবর্তন হয় না। এমনকি তা আপনজনের কাছে লুকাতে গেলেও তা প্রকাশ হয়ে পড়ে। কখনো স্বপ্নে কিংবা কখনও মনের অজান্তেই তা প্রকাশ করেন। রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে এখন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ছড়াছড়ি। সব ক’টি কেন্দ্রই চলছে বেশ ভালোভাবেই।

অথচ একসময় সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ছিল একটি। তা তেজগাঁওয়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এসব কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসক্তরা কি সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পেরেছেন। না। বেশির ভাগই সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেননি।

কারণ এসব কেন্দ্রে মাস কয়েক থাকার পর বাইরে বেরিয়ে এসে ফের তারা অন্ধকার জগতে পা বাড়ান। এমনও শোনা যায়, কোনো কোনো নিরাময় কেন্দ্রে নিজেরাই আসক্তদের নেশা সরবরাহ করে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন না তারা।

নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়েও সন্তানদের সুস্থ করতে পারছেন না অভিভাবকরা। এমন কত অভ্যাস যে গড়ে তোলে মানুষ। ঘুষখোর অফিসার জীবনে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়েও তার অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন না। বাড়ি-গাড়ি, ধন-দৌলত করেও তাদের আফসোস থেকে যায়।

তাইতো বনখেকোর বাসার চালের ড্রাম, বালিশের ভেতর থেকে পাওয়া যায় অর্থ আর অর্থ। যে টাকা দেখে সারাদেশ হয় হতবাক। মিডিয়া খবর নিয়ে দেখেছে- এত টাকার মালিক হলেও বনখেকো তার মাকে ভরণ-পোষণ করতো না। ভাঙা ঘরেই বসবাস করতে হয়েছে তাকে।

এ কাহিনী শুনেই সারা দেশ ছিঃ ছিঃ করেছে। দেশের মানুষ যতই ছিঃ ছিঃ করুক এতে তাদের কিছুই যায় আসে না। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ফোকলা করে হাজার হাজার কোটি টাকা গিলে খেয়েছে।

কখনো ভুয়া এলসি, কখনো নকল কাগজ সরবরাহ করে একের পর এক টাকা তুলে নিয়েছে তারা। বাসের কন্ডাক্টরও নাকি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। ব্যাংকের কর্ণধাররা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে ব্যাংকগুলোকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করেছে।

এইতো গতকাল এক ব্যাংকারের সঙ্গে দেখা। তিনি দুঃখ করে বললেন, ব্যাংক থেকে প্রচণ্ড চাপ। একেকজনকে কোটি টাকা টার্গেট দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এফডিআর, মোটা অঙ্কের টাকা জমা রাখাসহ নানা সিস্টেমে ব্যাংকে গচ্ছিত রাখতে গ্রাহকদের উদ্ধুব্ধ করতে। কি করব বুঝে পাচ্ছিনা।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। অনেকে এ অবস্থায় ব্যাংকে টাকা রাখছেন না। রাজনীতিও উত্তপ্ত। কি হয় দেশে তা নিয়ে চিন্তিত মানুষ। কিন্তু কেউতো অভ্যাস বদলায় না। বদলাতে চায় না। সবাই মনে করে- তিনি যা করছেন, তা-ই ভালো।

এ কারণেই হয়তো ‘কয়লা যায় না ধুলে, অভ্যাস যায় না মরলে' প্রবাদ বাক্যটি সমাজে প্রচলিত। আর তাইতো কারো কারো জীবনে অভ্যাস পরিণত হয় বদ অভ্যাসে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম