logo

বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

প্রেম থেকে রাজনীতি, সব জায়গায় চাতুরী

শামীমুল হক | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০১৮

 

যদি থাকে নসিবে/ আপনি আপনি আসিবে/ জোর করে মন/ হরণ করো না/করে ছলনা/ সে যে ভীষণ যন্ত্রণা। বাউল শামসুল হক চিশতী প্রেমিকদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন এ মন্ত্রণা। চিশতীর কণ্ঠের এ গান এখন যুবকদের মুখে মুখে। আসলে প্রেম আসে আবেগ থেকে। প্রেম আসে মনের গহীন থেকে।

প্রেম আসে ভাব থেকে। প্রেমে থাকে বাসনা। প্রেমে থাকে সাধনা। কিন্তু প্রেমে যখন দাগ লেগে যায় সেই প্রেম হয়ে যায় কলঙ্কিত। আর এ কলঙ্ক নিয়ে পার করতে হয় গোটা জীবন। এতে প্রেমের জ্বালায় কেউ পাগল হয়। কেউবা জীবন দেয়। কেউবা নতুন প্রেমের সন্ধানে নামে। আসলে এ পৃথিবীটাই প্রেমের উপহার।

যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন প্রেম থাকবে। থাকবে যন্ত্রণা। থাকবে জোর করার ই”ছা। তাই তো মন জোর করে হরণ করতে নিষেধ করছেন বাউল। বলেছেন ছলনা না করতে। কিন্তু আজ সমাজে কি দেখছি? প্রেম-পিরিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আদব-কায়দা, কথা-বার্তা, সমাজনীতি, রাজনীতি- সব জায়গায় চলছে ছলনা আর চাতুরী।

শুধু এখানেই কেন, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্র, মা-মেয়ে, ভাই-ভাইয়েও চলে ছলনা কিংবা চাতুরী। কে কাকে ছলনা করে হারাতে পারে- সেটাই যেন এখন প্রতিযোগিতার বিষয়। শুধু কি তাই? প্রত্যেকেই আমরা নিজের স্বার্থে ছুটি। একবারও চিন্তা করি না অন্যের কথা। অন্যের স্বার্থের কথা। নিজের আশি ভাগ স্বার্থের পাশাপাশি অন্যের বিশ ভাগ স্বার্থ দেখলেও সমাজ বদলে যেতো।

কিন্তু না। পুরো একশ’ ভাগই আমার চাই। এটা করতে গিয়েই সমাজে, রাষ্ট্রে আজ বিশৃঙ্খলা। এ প্রসঙ্গে সেই দুই বান্ধবীর কথা আনতে হয়। দীর্ঘ দিনের বান্ধবী তারা। পঞ্চাশ বছর তো হবেই। সুখে-দুঃখে একে অপরের সঙ্গে থাকেন। ভাগাভাগি করেন কষ্ট কথাও। একদিন দুজন বসে কথা বলছেন। একজন আরেকজনের কাছে জানতে চাইলেন, ‘আচ্ছা তোর মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে কেমন আছেরে? জামাইটা কি ভালো পড়েছে?’

বান্ধবী উত্তর দিলেন, ‘কি বলবো তোরে, আমার মেয়ের মতো সুখী এ জগতে বোধহয় খুব কম আছে। জানস, জামাইটা এমন পড়েছে কি বলবো তোরে, মেয়ে যা বলে তাই শুনে। একেবারে মেয়ের বাধ্য। এমন জামাই পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আর জানোস, ছেলেটাকে নিয়ে একেবারে বেকায়দায় পড়েছি। ও এতো বোকা বউয়ের কথায় ওঠে আর বসে। ওঠে আর বসে।’

এই ঘটনা সমাজের একটা চিত্র। নিজের মেয়ের বেলায় একরকম চিন্তা আর ছেলের বউয়ের বেলায় অন্যরকম। এখানেই যত সমস্যা। মেয়ে আর বউকে যদি এক পাল্লায় মাপা যেত তাহলে আর সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতো না। ঘরে ঘরে আর ছলনার আশ্রয় নিতে হতো না কাউকে। কথায় বলে, প্রেম আসে স্বর্গ থেকে। কিন্তু ইদানীং আমরা কি দেখছি?

প্রেমিক তার প্রেমিকাকে ভোগ করার জন্য প্রেমের অভিনয় করে। নানা ছলনায় ভুলিয়ে নিজের কব্জায় নেয়। এরপর নিজের কাজ হাসিল করে সটকে পড়ে। একে কি প্রেম বলা যায়? না। মোটেও না। প্রেমিকা তার অন্তর দিয়েই ভালোবেসেছিল তার প্রেমিককে। কিন্তু প্রেমিকের মনে যে ছলনা কাজ করছে তাতো বুঝতে পারেনি প্রেমিকা।

অপরদিকে আজকাল শোনা যায়, ভালোবাসার প্রস্তাব কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পড়ে কেউ কেউ। যদি ভালোই বাসবে তাহলে এখানে প্রতিশোধ কেন? অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ, কেউ কেউ রাস্তায় আসা-যাওয়ার পথে এসিড ছুড়ে মারে। আবার কেউ রাতের আঁধারে ধর্ষণ করে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলছে।

একবারও ওরা ভাবে না জোর করে মন পাওয়া যায় না। মন এক অন্যরকম ব্যাপার। নিজের ব্যবহার দিয়ে মন জয় করে নিতে হয়। সমাজটা আসলেই বদলে গেছে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। সুযোগ পেলেই খোঁচা দেয়। যাচাই না করেই মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

আর রাজনীতিতে তো যা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটাকে রাজনীতি না বলে বলা যেতে পারে ছলনীতি। সেখানে যে ছলনার খেলা হয়, তা দেখে মানুষ বিস্মিত। অনেক রাজনীতিক আছেন, প্রতি জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান অনবরত। হাততালি পান অনবরত। কিন্তু প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন করেন না তিনি। এটাই তার ছলনা। মাঝখানে হাততালি হলো লাভ।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম