logo

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

নিতম্বের নাচ এবং আদিম হাওয়া

শামীমুল হক | আপডেট: ০৩ মে ২০১৮

 

দিন দিন পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতা ভর করছে সমাজে। আধুনিকতার চরমে শিখরে মানুষ। আর তথ্যপ্রযুক্তি গোটা পৃথিবীকে এক ছাদে বন্দি করেছে। কিন্তু মন মানসিকতায় কতটুকু এগিয়েছি আমরা। দেশে দেশে এখন সুন্দরী প্রতিযোগিতা হয়। সুন্দরীদের মেলা বসে। সুন্দরীদের দেহ দেখে নয়নভরে। আবার কোথাও দিগম্বর হয়ে সবাই নাচে। গায়। এখন সুন্দরীরা নেমেছে নিতম্ব প্রতিযোগিতায়। সুন্দরীরা তাদের নিতম্ব নিয়ে হাজির হচ্ছে প্রতিযোগিতায়।

কার নিতম্ব কত সুন্দর। কত আকর্ষণীয় তা দেখাতে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে স্বল্প বসনে হাজির একগাদা সুন্দরী। তারা তাদের নিতম্বদেশ কতটা সুন্দর তা প্রদর্শন করলেন সাম্বার দেশ ব্রাজিলে। এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের আদলে এ প্রতিযোগিতায় তারা সবাই পরেছিলেন ব্রাজিলের ঐতিহাসিক হলুদ রঙের সুইমসুট। তাতে তাদের নিতম্বদেশ দেখা গেছে স্পষ্ট।

প্রাথমিকভাবে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন ২৭ সুন্দরী। নিতম্বের দিক থেকে তাদের মাঝ থেকে মাত্র ১৫ জনকে বাছাই করা হয়েছে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য। তা হবে আগামী ৫ নভেম্বর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে।

তবে এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন দু’জন হিজড়া। তারা হলেন- পলা অলিভেইরা ও গিওভান্না স্পাইনেলি। এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে পশ্চিমা মিডিয়ায়। প্রতিযোগিতায় তাদের একপর্যায়ে নিতম্বদেশ দুলিয়ে অদ্ভুত আবেদন সৃষ্টি করে নাচতে হয়। এ জন্য এ প্রতিযোগিতা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে।

বলা হচ্ছে, এ প্রতিযোগিতার থিম হলো বৈচিত্র্য তুলে ধরা। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন রাফায়েলা অলিভিয়েরা, জুলিয়ানা অলিভিয়েরা, সিডা আলভেস প্রমুখ। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গিওভান্না স্পাইনেলি বলেছেন, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এতে আমি গর্বিত। আমি হিজড়া হওয়া সত্ত্বেও সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।

রাশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর দু’মাসেরও কম সময় আছে। এ সময়কে সামনে রেখে এবারের মিস বামবাম প্রতিযোগিতায় সুইটসুটের রং নির্ধারণ করা হয়েছে হলুদ ও সবুজ। প্রতিযোগীদের বিষয়ে অনলাইনে ভোট শুরু হবে ৬ আগস্ট। এরপর ৫ নভেম্বর সাও পাওলোতে হবে গ্রান্ড ফিনালে।

তখন একজন বিশেষজ্ঞ বিচারক সুন্দর নিতম্বের সুন্দরী বাছাই করবেন। বাহ্ কত সুন্দর এর নিয়ম! আধুনিকতা আমাদের নিয়ে যাচ্ছ কোথায়। নারীকে বানানো হচ্ছে পণ্য। নারীরাও ইচ্ছে করে এতে শামিল হচ্ছে। অবাক কথা হলো-পৃথিবীতে মানুষের রুচিবোধ কি দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে? তাই বলে এতটা নিচে।

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক- প্রায়ই শোনা যায় তিন বছর কিংবা চার পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষিত হচ্ছে। যেখানে রাস্তার কুকুরকেও তাদের শিশুদের উপর এমন বর্বর আচরণ করতে কেউ দেখেনি। সেখানে বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কীভাবে পারে। কেমন করে পারে? নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তর মেলে না।

কেন দিন দিন পৃথিবী আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছে। কেন মানুষ হয়ে পশুর চেয়েও অধম কাজ করছে স্বাচ্ছন্দ্যে? এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি? আদিম যুগে মানুষ লজ্জা নিবারণ করত গাছের পাতা দিয়ে। কিন্তু এখন আধুনিকতা মানুষকে পোশাক-আশাকে চমক সৃষ্টি করেছে। সেই পোশাক ছেড়ে মানুষ কেন পেছনের দিকে দৌড়াচ্ছে। এর কি উত্তর জানা আছে কারো কাছে?

পরকীয়ার জন্য নিজ গর্ভের সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে এই সময়ে এসে। ভাবলে গা শিউরে ওঠে। এও কি সম্ভব? কীভাবে সম্ভব? যত প্রশ্নই করি না কেন নিজেকে- এসবতো ঘটছে। দিন দিন আরও কি ঘটে কে জানে। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, এমন একদিন আসবে মানুষ আদিম যুগে ফিরে যাবে। পৃথিবীতে আধুনিকতা বলে কিছু থাকবে না। আর যে আধুনিকতা মানুষের বিবেক বুদ্ধি গিলে খায় সেই আধুনিকতার দরকার কি?
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম