logo

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

একই পথে হুদা কমিশনও

শামীমুল হক | আপডেট: ১৫ মে ২০১৮

এতো তাড়াতাড়ি কালো চশমা চোখে দেবে নির্বাচন কমিশন? এটা ভাবনায়ও ছিল না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যা দেখালো তাতে দেশবাসী হতবাক। লজ্জায় মাথা লুকাচ্ছে অনেকেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কালো চশমার আড়াল থেকে তা দেখতে পাচ্ছে না।

কথা হলো- নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায় সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। এতে সরকার কিংবা অন্য কারো কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন কি কারণে এমন নির্লজ্জ উদাহরণ সৃষ্টি করলো? সারাদিনের নির্বাচনের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন কারো অনুকম্পা পেতে উদগ্রীব।

তাইতো সুবোধ বালকের মতো সব অনাচার মেনে নিয়েছে। জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, গণসিল মারা সবই হয়েছে সেখানে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনেই ঘটেছে এসব ঘটনা। তারা নির্বিকার। তাদের বিবেক কাজ করেনি।

ফলাফল যাই হোক সারাদিনের চিত্র মানুষকে এরশাদ জমানার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সে সময় ভোটে নির্বাচন কর্মকর্তা হতে চাইতেন না শিক্ষক কিংবা সরকারি কর্মকর্তারা। অপারগ হয়ে দায়িত্ব নিলেও তারা সবকিছু সহ্য করতেন। যে যা করতে চাইতেন অনায়াসে তা করতে দিতেন।

সে সময় একটা কথা তারা বলতেন, আগে নিজের জান বাঁচানো ফরজ। মঙ্গলবারের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেখে অনেকেই সেই কথাকে মনে করছেন। বলছেন, ভালোই হলো কষ্ট করে আর কাউকে ভোট দিতে যেতে হবে না। যদিও রকিব কমিশনও একই কাজ করেছেন।

তাই হুদা কমিশনের কাছে মানুষের প্রত্যাশাটা ছিল বেশি। কিন্তু এ প্রত্যাশায় একেবারে জল ঢেলে দিলেন হুদা কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এ কর্মকাণ্ড দেখে তার জন্মস্থান বাউফলের সাংবাদিক এমরান হাসান সোহেল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে- ‘হুদা ভাই না পারলে ছেড়ে দাও’- শিরোনামে লিখেছেন- কেএম নূরুল হুদা, তোমার জন্য আমরা গর্বিত। কিন্তু তুমি না পারলে ছেড়ে দাও। শিক্ষিত জনপদ হিসেবে পরিচিত বাউফলের মানুষকে অন্য জেলা ও উপজেলার মানুষরা আলাদাভাবে ইজ্জত করে। কিন্তু তোমার কর্মের জন্য জাতীয়ভাবে বাউফল এবং এ জনপদের মানুষ নিন্দিত হোক- এটা মানা যায় না। বাউফলকে গালি খাওয়ানোর অধিকার তোমার নাই। আজ যা দেখলাম তাতে তো সবাই ছিঃ ছিঃ করছে। তুমি ভাই না পারলে ছেড়ে দাও। আর অনুরোধ এ কারণে যে আমিও ওই মাটির সন্তান’।

সাংবাদিক সোহেলের স্ট্যাটাসে রয়েছে ক্ষোভ, রয়েছে অভিমান। আবার রয়েছে অধিকারও। হুদা কমিশনের অধীনে এমন নির্বাচন হবে হয়তো সোহেল চিন্তাই করতে পারেননি। কিন্তু তাই হয়েছে। সারাদেশ দেখেছে নির্লজ্জ সব কাণ্ড। অনলাইনগুলোতে নির্বাচনের তাৎক্ষণিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে- সরকার কি এমন নির্বাচন চেয়েছে? না। সরকার এমন নির্বাচন চাইতে পারে না। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনের সব দায় নির্বাচন কমিশনের। এখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ করে না। সত্যিই তো নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। কিন্তু কমিশন সেটা না পারলে সরকার কি করবে?

তাই বলতে হচ্ছে- হুদা কমিশন আপনারা পারেননি। তাই বলে পারবেন না যে- তা বলছি না। সময় থাকতে বিবেককে জাগ্রত করুন। এ দেশতো আপনাদের অনেক দিয়েছে। এবার দেশকে কিছু দেয়ার চিন্তা করুন। সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। দেখবেন পারবেন।

সময় থাকতে চোখের কালো চশমা খুলে ফেলুন। আর যদি ভাবুন- সমাজ-সংসারে ক’জন থাকতে পারেন বিতর্কের ঊর্ধ্বে। কিংবা একজনকে কি সবাই ভালো বলবেন? পক্ষে-বিপক্ষে লোক থাকবেই। তাহলে বলার কিছু নেই। তবে এতটুকু বলবো- ঘুরেফিরে কালো চশমার বেড়াজালে বন্দি নির্বাচন কমিশন!
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম