logo

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র, ১৪২৫

header-ad

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এবং ...

শামীমুল হক | আপডেট: ১৮ মে ২০১৮

নব্বই দশকের শুরুক কথা। দেশে সবেমাত্র মোবাইল ফোন এসেছে। বিএনপি তখন ক্ষমতায়। এলিট শ্রেণির মানুষ তখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ঘুরতেন। গাড়ি থেকে নামতেন। আমজনতা চেয়ে চেয়ে তা দেখতো। সে সময় মোবাইল ফোনে টিপ দিলেই ১১ টাকা কেটে নিত মোবাইল কোম্পানি। সাধারণ মানুষের জন্য তা ছিল কল্পনার বিষয়।

এরই মধ্যে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ধীরে ধীরে মোবাইল ফোনকে সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে এক লাফে তা চলে আসে সাধারণ মানুষের নাগালে। মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে যায় মোবাইল ফোন। এখনতো প্রতিঘরে জনে জনে মোবাইল ফোন।

এর কৃতিত্ব একমাত্র আওয়ামী লীগের। এখন ৬০ পয়সা মিনিট। আবার পালসও আছে। যন্ত্র-যুগের দাবিদার আওয়ামী লীগ এখানেই বসে থাকেনি। জনগণকে বিশ্ব দরবারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এনে দিয়েছে ইন্টারনেট। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নত শিখরে দেশকে পৌঁছে দিতে সরকারের সর্বশেষ অবদান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে স্যাটেলাইট যুগে। অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী। অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে। যেদিন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশের দিকে ছোটে সেদিন বাংলাদেশের কোটি মানুষের চোখ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে।

ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশের দিকে উড়ার সময় আনন্দে ঝিলিক দিয়ে ওঠে কোটি মানুষের চোখ। কেনেডি স্পেস সেন্টারে জড়ো হওয়া বাংলাদেশিরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন ঐতিহাসিক এ মুহূর্তে। ১২ মে রাতে মহাকাশ পানে ছুটে ১৬ কোটি মানুষের গর্বের স্যাটেলাইট।

এর সঙ্গে স্যাটেলাইট এলিট ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। মহাকাশ জয়ের রাতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সারাদেশে। এর মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠালো বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন।

ফ্লোরিডার স্বচ্ছ আকাশে প্রায় সাত মিনিট স্যাটেলাইটটি দেখা যায়। এরপরই সজীব ওয়াজেদ জয়ের মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায়। এ সময় জয় মোবাইলের ভিডিওকলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে উৎক্ষেপণস্থলে উপস্থিত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস দেখান। এ সময় কেউ কেউ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ আর অনেককে দেখা গেছে চোখের জল মুছতে। সবমিলিয়ে উপস্থিত বাংলাদেশিরা ওই সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশের কোটি মানুষের চোখেও এসময় ছিল আনন্দ অশ্রু। ঘটনাস্থল কেনেডি স্পেস সেন্টারে সমবেত বাঙালিরা সমবেত কণ্ঠে ধরেন জাতীয় সংগীত, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।

উৎক্ষেপণস্থল থেকে ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষও তখন গেয়ে ওঠেন একই সংগীত। শুরু হয় চিৎকার, হর্ষধ্বনি ও আনন্দাশ্রুর বান। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উত্তরণের দৃষ্টান্ত। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সক্রিয় হলে দেশের টেলিভিশন ও ব্রডব্যান্ড যোগাযোগে উন্নতি ঘটবে।

এ স্যাটেলাইটের কারণে তিন ধরনের সেবা ও ৪০ ধরনের সুফল পাবে দেশবাসী। উপগ্রহটি থেকে সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ এর সুযোগ নিতে পারবে।

বঙ্গবন্ধু-১ এর ফলে ডাইরেক্ট-টু-হো (ডিটিএইচ) ভিডিও সার্ভিস, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষিখাতসহ দুর্যোগ উদ্ধারে ভয়েস সার্ভিসের জন্য সেলুলার নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এবং এসসিএডিএ, এওএইচও এর ডাটা সার্ভিসের পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস (ভিসেট) পরিচালনায় আরো সহজতর করবে।

দেশের মানুষের মুখে এখন শুধু একই কথা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। মহল্লার চা দোকান থেকে সর্বত্র আলোচনা এর ফলে সাধারণ মানুষ আর কম দামে ব্যবহার করতে পারবে ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ে বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি করেছে।

শুধু তাই নয়, এক সময় পদ্মাসেতু নিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় ছিল দেশবাসী তখন প্রধানমন্ত্রীর অবাক করা এক ঘোষণায় মানুষের মনে আশা জাগায়। ষড়যন্ত্রকারীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবেন। বর্তমান সময়ে এসে তা করে দেখিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন সাধারণ মানুষের ভরসা, তেমনি সাধারণ মানুষও শেখ হাসিনার আস্থার জায়গা। তাইতো তিনি সব হারিয়েও দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অবিরাম। জোড় গলায় বলতে পারেন আমি পরিবার পরিজন হারিয়েছি। আমার হারাবার আর কিছু নেই। যতদিন বেঁচে থাকবো দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাবো।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম