logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

আরেকটা দিয়েই দ্যাখ না

শামীমুল হক | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হাজারটা ভালো কাজ করে একটি ভুল করুন, দেখবেন চারদিকে সমালোচনার ঝড়। ভালো কাজগুলোর প্রশংসা নেই। ভুল নিয়ে হইচই। তাই যেকোনো কাজ করতে গেলে ভেবেচিন্তে পা ফেলতে হয়। জীবনে চলার পথে ভুল করা যাবে না। হিসাব কষে এগুতে হবে।

একটি উদাহরণ দেয়া যাক- এক শিক্ষক তার একটি ক্লাসে ব্লাকবোর্ডে নয়-এর নামতা লিখছেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে। তিনি লিখলেন, নয় একে সাত, নয় দুগুণে আঠার, তিন নয় সাতাশ, চার নয় ছত্রিশ, পাঁচ নয় পঁয়তাল্লিশ, ছয় নয় চুয়ান্ন, সাত নয় তেষট্টি, আট নয় বাহাত্তর, নয় নয় একাশি, নয় দশে নব্বই।

শিক্ষক বোর্ডে লিখে পেছন ফিরে দেখলেন শিক্ষার্থীদের কেউ হাসছে। কেউ কানাঘুষা করছে। এবার শিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বললেন, শোন- আমি ইচ্ছে করেই নামতায় ভুল করেছি। কিন্তু এখানে দশটি নামতার একটি ভুল হয়েছে। বাকি নয়টি কিন্তু ঠিক আছে। এই একটি ভুলের জন্যই তোমরা কেউ হাসছো। কেউ কানাঘুষা করছো।

তোমাদের বলতে চাই- জীবনে চলার পথটাও এরকম। তুমি চলার পথে হাজারটা ভালো কাজ ও ঠিক কাজ করার পাশাপাশি একটি ভুল করলে সব শেষ। এই একটি ভুল নিয়ে সবাই তোমার সমালোচনা করবে। কিন্তু এত যে ভালো কাজ করেছ তার কোনো প্রশংসা পাবে না। এ মুহূর্তে আমাকে নিয়ে তোমরা যা করছো। আমি নয়টি নামতা ঠিক করেছি এর জন্য কিন্তু তোমরা আমাকে ধন্যবাদ দাওনি। একটি ভুল তোমাদের মনে গেঁথে গেছে। আমাদের সমাজ সংসারও ঠিক তেমন। তাই জীবনে চলার পথে সবসময় ভেবেচিন্তে এগুবে।

সত্যিই আমরা কি ভেবেচিন্তে এগুচ্ছি? চারদিকে তাকালে দেখা যায় ভুল শুদ্ধ নয়, নিজের স্বার্থ ঠিক রেখে সামনে এগিয়ে যাই। কে কি বলল, সেদিকে তাকানোর ফুরসৎও নেই। সমাজে আরেকটি জিনিষ খুব বেশি দেখা যায়, নিজেকে মেলে ধরার প্রবণতা। নিজে যা পারবে তা-ও বড়াই করে বলে, যা না পারবে তা-ও বলে। এরা নিজেদের খুব চালাক ভাবে।

মনে করে, আমি যা বলছি বা করছি কেউ বুঝছে না। সাধারণ মানুষ সব বোকা। ওই তিন বন্ধুর মতো। তিনি বন্ধু লঞ্চের ছাদে করে কোথাও যাচ্ছিল। এর মধ্যে একজন অন্ধ, একজনের পা নেই, অন্যজন ভিক্ষুক। রাতের লঞ্চে চলতে চলতে হঠাৎ অন্ধ বন্ধুটি অন্য দুজনকে উদ্দেশ করে বলে, ‘ওই দেখছস, আকাশে কত সুন্দর চাঁদ উঠেছে।’

ওই দুই বন্ধু দেখে আকাশ অন্ধকার। চাঁদের দেখা নেই। এ অবস্থায় পা হারা বন্ধুটি বলে ওঠে, ‘ওই মিথ্যা কথা কস কেন? এমন লাথি দিমু যেন একেবারে নদীর মাঝখানে গিয়া পরস।’ সঙ্গে সঙ্গে ভিক্ষুক বন্ধুটি বলে ওঠে, ‘দে, জোড়ে লাথি দে। মিথ্যা বলার শাস্তি দে। কোন ডরভয় করিস না। টাকা পয়সা যা লাগে আমি দিমু।’

সত্যিই সমাজটা আজ দূষিত হয়ে গেছে। এ থেকে উত্তরণের কোনো পথ খোলা নেই। চাপাবাজদের দিন যাচ্ছে ভালো। তাদের কাছে অসহায় অন্যরা। চাপার জোড় এমন চলছে যে, ওই চাপার উপর দিয়ে ট্রেন গেলে ট্রেনের চাকার বিস্ফোরণ হবে। চাপার কোনো ক্ষতি হবে না।

সমাজে আরেক শ্রেণির লোক আছে যাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। কিন্তু জাহির করে গোটা দুনিয়াটাই তার। তাকে নিয়ে লোকে হাসে। এটা সে-ও বুঝে। কিন্তু না বুঝার ভান করে। মনে করে বলুক না যা বলার।

তাতে আমার কি? আমিতো ভালোই আছি। ওই মুচির কাহিনীর মতোই ঘটনা। এক মুচি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। অপর পাশ দিয়ে আসছেন আরেক ব্যাক্তি। কোন কিছু নিয়ে দুজনের মধ্যে হলো কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে মুচির উপর চড়াও হলো ওই ব্যক্তি। একের পর এক কিল, ঘুষি, থাপ্পড় দিচ্ছেন আর মুচি বেচারা বলছেন, ‘আরেকটা দিয়ে দ্যাখ। আরেকটা দিয়েই দ্যাখ।’

গ্রামে একটি প্রবাদ আছে, এক মণ দুধে এক ফোটা চনা মানে গরুর মুত্র পড়লে সবই শেষ। দুধ আর দুধ থাকে না। নষ্ট হয়ে যায়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম