logo

সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

বন্ধুটি আর ফিরবে না ক্লাসে

মো. মামুনুর রশিদ তৌসিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৮

অন্যরকম শান্ত ছিল তারেক। ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ। মেধাবী। কিন্তু হঠাৎ সব কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে গেল।

গত মাসেও মুখে বই গুঁজে পড়ে থাকা, ক্রিকেট খেলা, বিসিএস কোচিং, অথবা EEE ডিপার্টমেন্টের পাশের চা দোকানে শত গল্প ও হইহুলোড়ে থাকত প্রাণবন্ত। কিন্তু সে আর ফিরবে না। ক্লাসে আসবে না। হইহুল্লোড় করবে না। এটি ভাবতেই হৃদয়ের গভীরে হাহাকার করে ওঠে। নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়ে নোনা জল। এমনটি যে কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সাইন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের মাস্টার্সের ছাত্র তারেক।

গত ২৯ অক্টোবরের দিনটি ছিল সুন্দর। ছিল আন্দোলন-সংগ্রামে মুখর। চলছিল পরিবহন শ্রমিকদের অবরোধ আন্দোল।

তারেক অবরোধের মধ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সিট না পেয়ে বাধ্য হয়েই ট্রেনের ছাদে ওঠ। কিন্তু চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে। দুর্বৃত্তরা তারেকের সব কিছু কেড়ে নেয়। শেষে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়।

একদিন পর তার খোঁজ মেলে কুমিল্লা মেডিকেলে বেওয়ারিশ হিসেবে। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই তাকে ফেলে রাখা হয়। পরে ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয় অ্যাপোলো হসপিটালের আইসিইউতে।

সবকিছু ঠিক না থাকলেও আশাটা ছিল সে আবার ক্লাসে ফিরবে। আড্ডায় মেতে উঠবে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। গতকাল সোমবার থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে শান্ত ছেলেটি অভিমান করে চিরদিনের পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। চলে যায় না ফেরার দেশে।

শুধু তারেক নয়, তার মতো আরও অনেকের ভাগ্যেও হয়তো এমনটা হয়। কত জঘন্য। কিন্তু খুন করেও খুনিরা বেঁচে যায়।

তারেকের জন্য দোয়া কামনা করছে তার পরিবার এবং ক্লাসের বন্ধুরা। তারেক ভালো থাকুক ওপারে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি