logo

সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ, ১৪২৫

header-ad

একক প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত, নেপথ্যে ৩ কারণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যেসব আসনে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে, কয়েকটি কারণে সেই তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না। অথচ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই এ প্রার্থীদের নাম ঘোষণার কথা ছিল। আচমকাই সে তালিকা প্রকাশ স্থগিত করা হলো।

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির মনোনয়নের টিকিট হাতে পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে কানাঘুষা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার দিকে বিএনপির একক প্রার্থীদের আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। জানিয়ে দেয়া হবে কে কোন আসন থেকে ধানের শীষের প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের পর সন্ধ্যায় মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত করতে মির্জা ফখরুলকে অনুরোধ করেন।

তাদের যুক্তি হচ্ছে-এককভাবে বিএনপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলে জোটের অনৈক্য প্রকাশ পাবে। এতে তৃণমূলে ভুল বার্তা যাবে।

অন্যদিকে বিএনপির অপেক্ষমাণ প্রার্থীরাও প্রহর গুনছিলেন কখন প্রার্থী তালিকা আসবে। গণমাধ্যমকর্মীরা সেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর বিএনপির কার্যালয় থেকে জানানো হয়-প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে না।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, অনিবার্য কারণবশত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে সেই ‘অনিবার্য কারণ’টি আসলে কী? সেটি নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। বিএনপি ও তাদের দুই জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত একক প্রার্থী ঘোষণায় বিএনপির পিছু হটার পেছনে অন্তত তিনটি যুক্তি রয়েছে-

নেপথ্যে ৩ কারণ

প্রথমত, অনেকের প্রার্থিতা বাতিলের আপিল শেষ না হওয়া;

দ্বিতীয়ত, দুই জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়া;

তৃতীয়ত, বিএনপি একক প্রার্থী ঘোষণায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আপত্তি।

জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের বাকি আর মাত্র দুদিন। এখনো প্রায় সব আসনে বিএনপি ও জোটের একাধিক নেতার মনোনয়নপত্র জমা দেয়া আছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা অন্ধকারে আছেন। নির্বাচনে তিন সপ্তাহ আগেও প্রার্থীরা জানেন না তারা নির্বাচন করতে পারবেন কী পারবেন না।

বিষয়টি অনুধাবন করে বিএনপির প্রস্তুতি ছিল ১৫০ আসনে একক প্রার্থী ঘোষণার। তারা সেই তালিকাও চূড়ান্ত করে রেখেছিল। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আপত্তি এবং উপরোক্ত কারণগুলো সামনে রেখে তারা চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা থেকে পিছু হটে।

এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৬-৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের শুনানি চলছে। শুনানিতে প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৮০ প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির ৩৯ জন।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন ৫৪৩ প্রার্থী। এখনও ৩৮৩ প্রার্থীর শুনানি বাকি। আজ ও কাল প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল হবে। আগামীকাল শনিবার এ কার্যক্রম শেষ হবে।

এ মুহূর্তে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হলে অপেক্ষমাণরা বঞ্চিত হতে পারেন। বিষয়টি মাথায় রেখে বিএনপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ থেকে পিছু হটে।

বিএনপির নেতৃত্বে দুটি রাজনৈতিক জোট এবার নির্বাচন করছে। এতে দল আছে ২৭টি। এই দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। দফায় দফায় বৈঠক চলছে। কিন্তু চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

দুই জোটের সঙ্গে আসন বণ্টনের রফা নিয়ে পৃথক দরকষাকষি করতে হচ্ছে বিএনপিকে। একজোটের শরিকদের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়, তো অন্য জোট বেঁকে বসে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আসনে ফয়সালা করতে আজও বসবে ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি