logo

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৬

header-ad

কার হাতে ব্রেক্সিটের চাবি?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়া অর্থাৎ ব্রেক্সিট নিয়ে যে পরিকল্পনা হাজির করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে, তা ঐতিহাসিক ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করেছেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। তবে কিছুক্ষণ পরই বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর ওপর অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মৃদুভাষী করবিন একসময় দলে ব্রাত্য ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি বিরোধী দলের প্রধান হন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে কয়েক বছর তিনি চুপচাপ ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে। আর তাকে এখন একটি বিকল্প বেছে নিতেই হবে। এ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ব্রেক্সিটের শেষ অবস্থা কী হবে। -খবর নিউইয়র্ক টাইমস।

নিউইয়র্ক টাইমমের ওই বিশ্লেষণে বলা হয়- নিজেকে সাচ্চা বামপন্থী ও তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করে দলের ক্ষমতায় আসেন করবিন। তাই এই তৃণমূলকে অগ্রাহ্য করে ব্রেক্সিট নিয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তে আসা থেকে বিরত থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘আনাদার ইউরোপ ইজ পসিবল’ নামে বামপন্থী একটি গ্রুপের নেতা মাইকেল চেসাম বলেন, ‘মানুষ যদি ভাবতে শুরু করে করবিন আর দশজন রাজনীতিকের মতোই একজন রাজনীতিক, তাহলে করবিন ম্যানিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে।’ চেসামের গ্রুপ চায়- লেবার দল ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলুক। কিন্তু করবিন কি দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলবেন? নাকি ব্রেক্সিট কার্যকরের দিকেই মনোনিবেশ করবেন?

এ নিয়ে যে কোনো একটি সিদ্ধান্তে আসাটা তার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। করবিন যে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, তা প্রায় ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পার্লামেন্ট ফের অসাড় হয়ে পড়ছে। কিন্তু আগামী কয়েক সপ্তাহে যে পরিকল্পনাই আসুক পার্লামেন্টে, তার ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে করবিনের।

এদিকে করবিন যদিন ব্রেক্সিট সমর্থন করেন, অর্থাৎ ইইউ থেকে বের হয়ে এলেও সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে থাকেন, তাহলে সেই প্রস্তাব হয়তো পার্লামেন্টে পাস হবে। তিনি যদি দ্বিতীয় গণভোটের প্রস্তাব দেন, যার ফলে হয়তো ব্রেক্সিটই বাতিল হয়ে যেতে পারে। সেই প্রস্তাবনারও পাস হওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে।

তিনি যদি নিজে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে লেবার দলীয় এমপিদের প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার কোনো সংশোধিত সংস্করণ সমর্থন দেয়ার অনুমতি দেন, তাহলেও সেই ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উতরে যাবে।
আর তিনি যদি উপর্যুক্ত কোনো বিকল্পই বেছে না নেন, অর্থাৎ সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন, তাহলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৃটেনের ইইউ ত্যাগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। সেই ক্ষেত্রে দেশটি অর্থনৈতিক মন্দা, এমনকি অর্থ ও ঔষুধ সঙ্কটেও পড়ে যেতে পারে! অর্থাৎ করবিনের যেকোনো সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে অনেক কিছু।

তবে যে কোনো একটি বিকল্প বেছে নেয়া খুব সহজ বিষয় নয়। তেরেসা মে’র কনজারভেটিভ দলে ব্রেক্সিট নিয়ে যতটা বিরোধ আছে, ততটা বিরোধ লেবার পার্টিতে নেই। এরপরও দলটি এ ইস্যুতে বেশ বিভক্ত। কিন্তু লেবার দলকে ক্ষমতায় ফেরানো ও কয়েক দশকের নব্য-উদারবাদী নীতি পাল্টে দেয়ার যে চূড়ান্ত লক্ষ্য করবিনের, তা বাস্তবায়ন করতে হলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখাটা অপরিহার্য।

করবিন সারাজীবন ইইউ’র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এটি হলো ব্যাংকারদের একটি ক্লাব, যেটি বামপন্থী নীতি আটকে দিয়েছে। ব্রেক্সিট উলটে দেয়ারও পক্ষে নন তিনি। কর্মজীবী যেসব লেবার ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাদেরকে ক্ষুব্ধ করতে চান না তিনি। কিন্তু তাকে বিস্ময়করভাবে লেবার দলের নেতা বানিয়েছে যে অ্যাক্টিভিস্টরা, তারা করবিনকে ব্যাপক চাপ দিচ্ছেন- যাতে তিনি ব্রেক্সিট বাতিল করার দিকে যান।

এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি প্রতিদিন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। এমন উভয় সংকট যেন পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী আন্দোলনেরই। জনতোষণবাদী আন্দোলনের বিপক্ষে লড়তে গিয়ে এই প্রশ্নেই পড়েছে বামপন্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক টিম বেল বলেন, ‘আপনি যদি ইউরোপের দিকে তাকান, দেখবেন মধ্য-বামপন্থী দলগুলো এ উভয় সংকটের সম্মুখীন। কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ও অধিক শিক্ষিত ভোটারদের কীভাবে তারা কাছে টানবে?’ এক পক্ষকে কাছে টানলে আরেক পক্ষ দূরে সরে যাবে। এই রাজনৈতিক সমীকরণই করবিন কিছু ইস্যুতে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে আসছেন না।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে- ব্রেক্সিটে সমর্থন দিলে মাত্র এক-পঞ্চমাংশ ভোটারের সমর্থন পাবে লেবার দল। আর দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে সমর্থন দিলে এক-তৃতীয়াংশ ভোটার লেবারকে সমর্থন দেবেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি