logo

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬

header-ad
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়

‘জ্বলতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯

জনপ্রিয়তা হারানোর আশঙ্কায় (ভারতে) ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার একের পর এক জনপ্রিয় জুয়া খেলতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলছে।

এর মধ্যে একটি হলো- লোকসভার মাধ্যমে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল পাস করানো। এ বিলের মাধ্যমে বাঙালি হিন্দুদের বিজেপির অনুকূলে আনার প্রয়াস থাকতে পারে। বিলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের (মুসলিম বাদে) হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিলকে কেন্দ্র করে আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভয়াবহ প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আসামে বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছে আসাম গণপরিষদ (এজিপি)। আসামের বৃদ্ধিজীবীরা ও নাগরিক সমাজ ক্ষোভে ফুঁসছে। বাস্তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু বিজেপির বিধায়কও এ বিলের বিরোধিতা করেন।

এ বিলের মাধ্যমে তাদের রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী অভিবাসীদের উপস্থিতিকে বৈধতা দেয়া হবে। তাই বিজেপির নর্থ-ইস্ট ডেমোক্রেটিক এলায়েন্সের কতগুলো দল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে বিলটি নিয়ে আর সামনে না এগুতে।

বিজেপি যদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সীমান্তে কড়াকড়ি করতে চায়, তাহলে বিলটি নিঃসন্দেহে লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে।

এটা অস্বীকার করার জো নেই যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জাতি-ধর্ম বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এটাও সত্য, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পরে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীর ঢেউ এসেছে এই অঞ্চলে।

আসামে অভিবাসী বিরোধী ক্ষোভ থেকেই আসাম চুক্তি হয়, যাতে অভিবাসী গ্রহণের সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৪ শে মার্চ। কিন্তু সংশোধিত বিলে এই তারিখকে ২০১৪ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর করা হয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব পরিমাপের জন্য শুধু ধর্মকে ব্যবহার করা দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক যে ধারা আছে তা ভয়াবহরকম লঙ্ঘন।

এ অঞ্চলের ‘বোলতার চাকে’ ঢিল মারা উচিত নয়। এ অঞ্চলটি সবেমাত্র বিচ্ছিন্নতাবাদকে পেছনে ফেলে এসেছে, সহজেই তাতে এ অঞ্চল আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল অবশ্যই স্থগিত রাখা উচিত হবে।

(ভারতের অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়। যার শিরোনাম ‘প্লেয়িং উইথ ফায়ার: টেক ব্যাক সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, নর্থ-ইস্ট কুড বার্ন ওভার ইট’)

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি