logo

বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ, ১৪২৬

header-ad

শিউলিদের মূল্যায়ন এবং...

শামীমুল হক | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দেশে কোন রাজনৈতিক দলটি তাদের নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে জানে? জনগণের আবেগ বুঝে পথ চলতে জানে? বিপদে সাধারণের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। লোক দেখানো নয়, অন্তর থেকেই দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য কাজ করে? হ্যাঁ, আবারো প্রমাণ হলো একমাাত্র আওয়ামী লীগই এ তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছে।

মূলকথা- আওয়ামী লীগের তুলনা আওয়ামী লীগই। শুক্রবার রাতে সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৪১ সদস্যের মনোনয়ন ঘোষণা প্রমাণ করে দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণ। শুধু তাই নয়, গোটা দেশের খবর তিনি রাখেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে।

মন্ত্রীসভা গঠন করে চমক দেয়ার পর এবার সংরক্ষিত আসনে চমক দেখালেন প্রধানমন্ত্রী। মূল্যায়ন করলেন রাজপথের কর্মীদের। নির্যাতিত আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের। নিশ্চয় সবার মনে থাকার কথা। নরসিংদী পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র লোকমানের কথা। যিনি খুন হয়েছিলেন।

লোকমান হত্যাকাণ্ড সারাদেশকে নাড়া দিয়েছিল। লোকমান খুনের পর তার স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলী রাজনীতিতে নামেন। সংরক্ষিত আসনের চূড়ান্ত তালিকায় বুবলীকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন উম্মে ফাতেমা বেগম শিউলি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যিনি শিউলি আজাদ নামে পরিচিত। তার স্বামী একেএম ইকবাল আজাদ ছিলেন সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ইকবাল আজাদের হাত ধরেই সরাইলের ঘরে ঘরে আওয়ামী লীগের পতাকা উড়তে থাকে।

সরাইলের এমন কোনো গ্রাম নেই, এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে ইকবাল আজাদের পা পড়েনি। এক পর্যায়ে তিনি সরাইলের গণমানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে স্থান করে নেন। জনপ্রিয় হয়ে উঠেন দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ইকবাল আজাদ নেমে পড়েন এলাকার উন্নয়নে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম প্রহাস জনপ্রিয় এ নেতাকে নিজ দলের প্রতিপক্ষের হাতে প্রকাশ্যে খুন হতে হয়। ইকবাল আজাদের হত্যাকাণ্ড সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এলাকার সাধারণ মানুষ মাসের পর মাস রাজপথে পড়ে থাকে ইকবাল হত্যার বিচারের দাবিতে। স্বামী রাজনীতি করায় শিউলি আজাদও সে সময় এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন। শুধুমাত্র ঢাকার বাসায় সরাইলের নেতা-কর্মীরা প্রতিদিনই ভিড় জমাতেন। তাদের কাউকেই আপ্যায়ন না করিয়ে ছাড়তেন না শিউলি আজাদ।

এভাবে সবার কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন শিউলি আজাদ। ইকবাল আজাদের মৃত্যুর পর এলাকার মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে। সবার আবদার তিনি যেন রাজনীতিতে নামেন। ইকবাল আজাদের শূন্যস্থান পূরণ করেন। মানুষের ভালোবাসা তাকে কাবু করে ফেলে।

তিনি সরাসরি নামেন রাজনীতিতে। অল্প সময়েই সরাইলের মানুষের মনে জায়গা করে নেন। হয়ে উঠেন সরাইল-আশুগঞ্জের প্রিয় নেত্রী হিসেবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিট পান। কিন্তু দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশে মহাজোট প্রার্থীর সমর্থনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

শুধু তাই নয়, মহাজোট প্রার্থীকে জয়ী করতে কাজ করেন মাঠে ময়দানে। সে সময় সরাইল- আশুগঞ্জবাসী আশা করেছিলেন, শিউলি আজাদ সংরক্ষিত আসনে এমপি হবেন। কিন্তু তা হয়নি। সরাইলের আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ এতে কষ্ট পেলেও শিউলি আজাদ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেননি।

নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলীয় সভাপতি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিন্তা করেই নিয়েছেন। আমাদের সবার মঙ্গলের জন্যই এ সিদ্ধান্ত। আপনাদের এসব চিন্তা না করে দল গুছানোর কাজ করুন। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হন।

২০১৪ থেকে ২০১৮। এ পাঁচ বছর একদিনের জন্যও তিনি মাঠ ছাড়েননি। খাল, বিল, নদী পেরিয়ে ছুটে গেছেন মানুষের কাছে। সাধারণের দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সুখের সঙ্গী হয়েছেন। শিউলি আজাদ হয়ে উঠেছেন সবার চোখের মণি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান। কিন্তু এ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয় মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিকে। ফলে বঞ্চিত হন শিউলি আজাদ। তারপরও শিউলি আজাদ আশা ছাড়েননি। তার এক কথা- জননেত্রী যা বলবেন, আমার কাজ হলো তা করা। আমি কি পেলাম বা পেলাম না তা নিয়ে চিন্তা করি না।

আওয়ামী লীগের জন্য আমার শ্বশুর খুন হয়েছেন। স্বামী খুন হয়েছেন। আমি আওয়ামী লীগের জন্য আজীবন কাজ করে যাব। একজন নেত্রী হয়ে উঠা শিউলি আজাদের মনের জোড় ছিল। দলের প্রতি আস্থা ছিল। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ছিল। বিশ্বস ছিল কাজ করলে একদিন মূল্যায়ন হবেই।

প্রধানমন্ত্রী তার মূল্যয়ন করেছেন। সংরক্ষিত আসনে তাকে মনোনয়ন দিয়ে সরাইল ও আশুগঞ্জবাসীকে সম্মান জানিয়েছেন। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিউলি কিংবা নরসিংদীর বুবলী নন, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রত্যেকেরই নেত্রী হয়ে উঠার পেছনে রয়েছে একেকটা ইতিহাস।

মুখ দেখে নয়, আওয়ামী লীগ কাজ দেখেই বাছাই করেছে প্রার্থী তালিকা। এমনটি একমাত্র আওয়ামী লীগই পারে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম